একনজরে আনোয়ারা সরকারি কলেজ, চট্টগ্রাম
শিক্ষা একটি জীবনব্যাপী প্রক্রিয়া। সৃষ্টির আদিকাল থেকে সভ্যতার উন্মেষ ঘটাতে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা অনস্বীকার্য। এই লক্ষ্যে দক্ষিণ চট্টগ্রামস্থ আনোয়ারা উপজেলার আনোয়ারা এলাকার শিক্ষানুরাগী সুধীজন, বিভিন্ন পেশাজীবী ও জ্ঞান তাপসের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ১৯৭২ সালে আনোয়ারা সরকারি কলেজে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। নিজস্ব জমিতে অনুষদভিত্তিক ভবন, প্রশাসনিক ভবন, দ্বিতল বিশিষ্ট গ্রন্থাগার ভবন ও প্রশস্ত মাঠসহ সবুজে ঘেরা নান্দনিক পরিবেশে নতুন মহিমায় উদ্ভাসিত হয়। বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলের মাধ্যমে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থেকে এ কলেজের দূরত্ব ১২.৫ কি.মি., এটি বৃহত্তর দক্ষিণ চট্টগ্রামের একটি স্বনামধন্য সরকারি কলেজ হিসেবে সুপরিচিত।[৩]
প্রতিষ্ঠাতা: আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু
অবকাঠামো
কলেজের নতুন ক্যাম্পাসের বিরাট এলাকা জুড়ে রয়েছে সুসজ্জিত চারটি বৃহৎ ভবন। এগুলো হলো প্রশাসনিক ভবন, বাণিজ্য ভবন, অনার্স ভবন ও বিজ্ঞান ভবন। এছাড়াও রয়েছে দ্বিতল গ্রন্থাগার ভবন, শিক্ষকদের জন্য একটি নতুন ডরমেটরী ও পাম্প হাউজ। পুরনো ক্যাম্পাসে শিক্ষকদের জন্য একটি ডরমেটরী ও ছাত্রাবাস অবস্থিত।[৪]
অনুষদসমূহ
কলেজের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই উচ্চ মাধ্যমিক ও স্নাতক (পাশ) শ্রেনিতে কলা, বাণিজ্য, বিজ্ঞান ও সামাজিক বিজ্ঞান বিভাগে পাঠদান করা হচ্ছে। সহশিক্ষা কার্যক্রমও কলেজের একটি উল্লেখযোগ্য দিক।
অনার্স বিষয়: বর্তমানে হিসাববিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা, ইসলামিক ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ে অনার্স কোর্স চালু রয়েছে। হিসাববিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে ১০০টি এবং অর্থনীতি বিষয়ে ১০০টি , ইসলামিক ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ে ১০০টি করে আসন রয়েছে।
প্রস্তাবিত অনার্স বিষয়/মাস্টার্স কোর্স: এ কলেজের ৭টি বিষয়ে অনার্স চালু করার প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে বিবেচনাধীন আছে। বিষয়গুলো হলো বাংলা, ইংরেজি, ইসলামি ইতিহাস ও সাংস্কৃতি, দর্শন, পদার্থ বিজ্ঞান, রসায়ন এবং গণিত। অনার্স বিষয়গুলোর বিভাগে মাস্টার্স কোর্স চালু করা প্রক্রিয়াধীন।
সহশিক্ষা কার্যক্রম
কলেজ ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে আছে একটি বিস্তৃত খেলার মাঠ। এতে ছাত্ররা ফুটবল, ক্রিকেট এবং ব্যাডমিন্টনসহ সকল বহিরঙ্গন ক্রীডায় অংশগ্রহণ করতে পারে। তাছাড়া ছাত্র-ছাত্রী মিলনায়তনে অভ্যন্তরীণ খেলাধুলার ব্যবস্থা আছে। বার্ষিক সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সপ্তাহ উদযাপন, বিতর্ক প্রতিযোগিতা এবং অন্তরঙ্গণ ও বহিরঙ্গণ ক্রিড়ানুষ্ঠান কলেজের পাঠ্যক্রমে বহির্ভূত কার্যক্রমের একটা উল্লেখ্যযোগ্য দিক।
রোভার-স্কাউট: লেখাপড়ার পাশাপাশি একজন ছাত্রকে আদর্শ, চরিত্রবান, কর্মঠ ও আত্মনির্ভরশীল সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য রোভার স্কাউটের পক্ষ থেকে প্রশিক্ষন দেয়া হয়। এ ছাড়াও বিনামূল্যে রোভার পোশাকসহ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন অনুষ্ঠান স্কাউটের পক্ষ হতে অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে।[৫]